এয়ারপ্ল্যান্টের আদ্যোপান্ত এবং যত্ন-
এয়ারপ্ল্যান্টের আদ্যোপান্ত এবং যত্ন-
এয়ারপ্ল্যান্ট একধরনের এপিফাইটিক গাছ।যারা অন্যগাছের গায়ে বেড়ে উঠে। কিন্তু এরা অন্য বেশিরভাগ এপিফাইটিক গাছের মত পরজীবী না।এরা ট্রপিকাল সাবট্রপিকাল এলাকার গাছ।যেখানে বেশি শীত পরে না, পরলেও বাংলাদেশের মত।
বিভিন্ন ধরনের এয়ারপ্ল্যান্ট পাওয়া যায়,যাদের নামের শুরু হয় তিলাডসিয়া( Tillandsia) দিয়ে।কিছু সহজলভ্য এয়ারপ্ল্যান্ট যেগুলা বাংলাদেশে বিভিন্ন সেলার নিয়ে আসে সেগুলো হল,
Tillandsia ionantha
Tillandsia funkiana
Tillandsia ceput medusa
T. bulbosa
T. xerographika ইত্যাদি
এদের সবার যত্নই মোটামুটি সহজ।এয়ারপ্ল্যান্টের যত্নের জন্য ২টা জিনিষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্ধারণ আর পানি।
এয়ারপ্ল্যান্ট কেনোপির গাছ মানে গাছের ডালে ছায়ায় বড় হয়, কিন্তু সাধারনত গাছের উপরের দিকে হওয়ায় একদম কম আলোতে ভালো হয় না একটু ব্রাইট আলো পায় এমন যায়গা ভালো। সুতরাং ইন্ডিরেক্ট আলো ব্রাইট স্পট এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য ভালো।
নামেই এয়ার আছে সুতরাং ঘরে সেই যায়গায় রাখবেন যেখানে ভালো বাতাস প্রবাহ আছে। অনেক যায়গায় শুনেছি, টেরারিয়ামে এয়ারপ্ল্যান্ট রাখে বেশি হিউমিডিটির জন্য। কিন্তু অনেক সময় বদ্ধ পরিবেশের হিউমিডিটি এয়ারপ্ল্যান্টের অকাল মৃত্যুর কারন হয়ে দারায়। খোলামেলা আলোকিত যায়গা এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য সবচেয়ে ভালো।
এয়ারপ্ল্যান্ট ওদের খাদ্য মানে নিউট্রিশন আর পানি পাতার মাধ্যমে গ্রহন করে। শিকড় ওদের শুধুই গাছ আকড়ে ধরে রাখার সাহায্যে আসে এর বাইরে আর কোন কাজ করে না।সেজন্য এয়ারপ্ল্যান্টকে টবে রেখে মাটি সার বা অর্কিডের মত কোকোচিপ্স বা এরকম মীডিয়ার কোন প্রয়োজন পরে না।যেকোন যায়গায় ঝুলায় রাখলেই হয়ে যায়।এদের শুধু সঠিক পদ্ধতিতে পানি দিতে হবে।
এয়ারপ্ল্যান্টকে পানি দেয়ার নিয়ম
১। গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে ১-২ দিন পর পর এয়ারপ্ল্যান্টের পুরা শরীর পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।
২। গ্রীষ্মকালে প্রতি ৭-১০ দিন অন্তর অন্তর পানিতে ২০-৪০ মিনিট ডুবায় রাখতে হবে।(কিন্তু বালব আছে এমন এয়ারপ্ল্যান্টকে পানিতে না চুবানোই ভালো)।
৩।বর্ষাকালে এয়ারপ্ল্যান্ট কে সোক করানোর বা ভেজানোর দরকার পরে না বেশি একটা। প্রতি ৩-৪ দিন অন্তর অন্তর একবার করে স্প্রে করলেই হয় আর মাসে একদিন যেদিন বৃষ্ট নাই আলোকজ্জিত দিনে ২০-৩০ মিনিট ডুবালেই চলবে।
৪।শীতকালে ২-৩ দিন পর পর স্প্রে আর ১৫-২০ দিন পর পর একবার করে সোক।
পানি দেয়ার ব্যাপারে এয়ারপ্ল্যান্টে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়
১। বনে জংলে কখনই এয়ারপ্ল্যান্ট সোজা হয়ে বেড়ে ওঠে না ওরা কাত হয়ে থাকে যেন বৃষ্টির পানি ওদের পাতায় না আটকায়। সেজন্য পানি দেয়ার পর অবশ্যই গাছকে ভালো করে ঝেড়ে এক্সট্রা পানি ফেলে দিতে হবে।
২।পানিতে সোক বা স্প্রে করার পর গাছকে কাত করে বা উলটা করে রেখে দিতে হবে ২-৪ ঘন্টা পর্যন্ত। এতে গাছের গায়ের অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে আর শুকায় যাবে।
৩। এয়ারপ্ল্যান্টকে পানি দেয়ার পর সেই পানি যেন ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে পুরাপুরি শুখায় যায় সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
৪। যেসকল এয়ারপ্ল্যান্টে বালব আছে যেমন মেডুসা, বুলবোসা,বুটসিয়াই এগুলোকে পানিতে সোক না করাই ভালো কারন অনেকসময় ওদের বালবে পানি জমে গিয়ে পচে যেতে পারে। এদেরকে সপ্তাহে ১ দিন দীর্ঘ সময় ধরে স্প্রে করতে পারেন।
ফার্টিলাইজেশন বা সার
এয়ারপ্ল্যান্টের খুব একটা সারের প্রয়োজন পরে না। ওরা বাতাস থেকেই সাধারনত প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহন করে। তাও ব্যাবহার করলে ২-৩ মাসে একবার। এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য স্পেশাল ফার্টিলাইজার পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে বিভিন্ন সেলারের নিয়ে আসে।ওটা ব্যাবহার করাই শ্রেয়। কারন এদের মাইক্রো আর ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের চাহিদা খুব কম যেটা সাধারন লিকুইড সারে অনেক বেশি থাকে। আর এয়ারপ্ল্যান্ট যে সারে কপার আছে সেটা একদমি সহ্য করতে পারে না।
এয়ারপ্ল্যান্ট ফ্যাক্ট
এয়ারপ্ল্যান্ট কেনার আগে অনেক সময় আমরা রঙিন পাতা দেখে কলি সহ কিনে থাকি। কিন্তু মনে রাখবেন এয়ারপ্ল্যান্ট সাধারনত ফুল দেয়ার সময়ই এরকম রঙিন হয়।এর পর ফুল ফুটে গেলে আস্তে আস্তে রঙ ফেড হয়ে যেতে থাকে। আরেকটা জিনিষ জেনে রাখা উচিত এয়ারপ্ল্যান্ট ওদের জিবদ্দশায় সাধারণত একবারি ফুল দেয় আর ফুল দেয়ার পর ২-৪টা বাচ্চা দিয়ে ৬ মাস থেকে ২-৩ বছরের মধ্যে মা গাছ মারা যাবে। আর এই বাচ্চা মা গাছের সাথে যুক্ত থাকবে আর মায়ের কাছ থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করবে। সুতরাং মা গাছের চেহারা দিন দিন খারাপ হবে এবং একটা সময় পর মারা যাবে।
এয়ারপ্ল্যান্টের চাহিদা খুব কম আর এদের পোকামাকড় আর ফাঙ্গাস হওয়ার চান্স খুব কম। এরা বেশ শক্ত প্রকৃতির।তাই আসুন সবাই নিজের বাগানে এয়ারপ্ল্যান্ট রেখে বাগানকে অনন্য সুন্দর করে তুলি।
বিভিন্ন ধরনের এয়ারপ্ল্যান্ট পাওয়া যায়,যাদের নামের শুরু হয় তিলাডসিয়া( Tillandsia) দিয়ে।কিছু সহজলভ্য এয়ারপ্ল্যান্ট যেগুলা বাংলাদেশে বিভিন্ন সেলার নিয়ে আসে সেগুলো হল,
Tillandsia ionantha
Tillandsia funkiana
Tillandsia ceput medusa
T. bulbosa
T. xerographika ইত্যাদি
এদের সবার যত্নই মোটামুটি সহজ।এয়ারপ্ল্যান্টের যত্নের জন্য ২টা জিনিষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্ধারণ আর পানি।
এয়ারপ্ল্যান্ট কেনোপির গাছ মানে গাছের ডালে ছায়ায় বড় হয়, কিন্তু সাধারনত গাছের উপরের দিকে হওয়ায় একদম কম আলোতে ভালো হয় না একটু ব্রাইট আলো পায় এমন যায়গা ভালো। সুতরাং ইন্ডিরেক্ট আলো ব্রাইট স্পট এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য ভালো।
নামেই এয়ার আছে সুতরাং ঘরে সেই যায়গায় রাখবেন যেখানে ভালো বাতাস প্রবাহ আছে। অনেক যায়গায় শুনেছি, টেরারিয়ামে এয়ারপ্ল্যান্ট রাখে বেশি হিউমিডিটির জন্য। কিন্তু অনেক সময় বদ্ধ পরিবেশের হিউমিডিটি এয়ারপ্ল্যান্টের অকাল মৃত্যুর কারন হয়ে দারায়। খোলামেলা আলোকিত যায়গা এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য সবচেয়ে ভালো।
এয়ারপ্ল্যান্ট ওদের খাদ্য মানে নিউট্রিশন আর পানি পাতার মাধ্যমে গ্রহন করে। শিকড় ওদের শুধুই গাছ আকড়ে ধরে রাখার সাহায্যে আসে এর বাইরে আর কোন কাজ করে না।সেজন্য এয়ারপ্ল্যান্টকে টবে রেখে মাটি সার বা অর্কিডের মত কোকোচিপ্স বা এরকম মীডিয়ার কোন প্রয়োজন পরে না।যেকোন যায়গায় ঝুলায় রাখলেই হয়ে যায়।এদের শুধু সঠিক পদ্ধতিতে পানি দিতে হবে।
এয়ারপ্ল্যান্টকে পানি দেয়ার নিয়ম
১। গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে ১-২ দিন পর পর এয়ারপ্ল্যান্টের পুরা শরীর পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।
২। গ্রীষ্মকালে প্রতি ৭-১০ দিন অন্তর অন্তর পানিতে ২০-৪০ মিনিট ডুবায় রাখতে হবে।(কিন্তু বালব আছে এমন এয়ারপ্ল্যান্টকে পানিতে না চুবানোই ভালো)।
৩।বর্ষাকালে এয়ারপ্ল্যান্ট কে সোক করানোর বা ভেজানোর দরকার পরে না বেশি একটা। প্রতি ৩-৪ দিন অন্তর অন্তর একবার করে স্প্রে করলেই হয় আর মাসে একদিন যেদিন বৃষ্ট নাই আলোকজ্জিত দিনে ২০-৩০ মিনিট ডুবালেই চলবে।
৪।শীতকালে ২-৩ দিন পর পর স্প্রে আর ১৫-২০ দিন পর পর একবার করে সোক।
পানি দেয়ার ব্যাপারে এয়ারপ্ল্যান্টে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়
১। বনে জংলে কখনই এয়ারপ্ল্যান্ট সোজা হয়ে বেড়ে ওঠে না ওরা কাত হয়ে থাকে যেন বৃষ্টির পানি ওদের পাতায় না আটকায়। সেজন্য পানি দেয়ার পর অবশ্যই গাছকে ভালো করে ঝেড়ে এক্সট্রা পানি ফেলে দিতে হবে।
২।পানিতে সোক বা স্প্রে করার পর গাছকে কাত করে বা উলটা করে রেখে দিতে হবে ২-৪ ঘন্টা পর্যন্ত। এতে গাছের গায়ের অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে আর শুকায় যাবে।
৩। এয়ারপ্ল্যান্টকে পানি দেয়ার পর সেই পানি যেন ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে পুরাপুরি শুখায় যায় সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
৪। যেসকল এয়ারপ্ল্যান্টে বালব আছে যেমন মেডুসা, বুলবোসা,বুটসিয়াই এগুলোকে পানিতে সোক না করাই ভালো কারন অনেকসময় ওদের বালবে পানি জমে গিয়ে পচে যেতে পারে। এদেরকে সপ্তাহে ১ দিন দীর্ঘ সময় ধরে স্প্রে করতে পারেন।
ফার্টিলাইজেশন বা সার
এয়ারপ্ল্যান্টের খুব একটা সারের প্রয়োজন পরে না। ওরা বাতাস থেকেই সাধারনত প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহন করে। তাও ব্যাবহার করলে ২-৩ মাসে একবার। এয়ারপ্ল্যান্টের জন্য স্পেশাল ফার্টিলাইজার পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে বিভিন্ন সেলারের নিয়ে আসে।ওটা ব্যাবহার করাই শ্রেয়। কারন এদের মাইক্রো আর ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের চাহিদা খুব কম যেটা সাধারন লিকুইড সারে অনেক বেশি থাকে। আর এয়ারপ্ল্যান্ট যে সারে কপার আছে সেটা একদমি সহ্য করতে পারে না।
এয়ারপ্ল্যান্ট ফ্যাক্ট
এয়ারপ্ল্যান্ট কেনার আগে অনেক সময় আমরা রঙিন পাতা দেখে কলি সহ কিনে থাকি। কিন্তু মনে রাখবেন এয়ারপ্ল্যান্ট সাধারনত ফুল দেয়ার সময়ই এরকম রঙিন হয়।এর পর ফুল ফুটে গেলে আস্তে আস্তে রঙ ফেড হয়ে যেতে থাকে। আরেকটা জিনিষ জেনে রাখা উচিত এয়ারপ্ল্যান্ট ওদের জিবদ্দশায় সাধারণত একবারি ফুল দেয় আর ফুল দেয়ার পর ২-৪টা বাচ্চা দিয়ে ৬ মাস থেকে ২-৩ বছরের মধ্যে মা গাছ মারা যাবে। আর এই বাচ্চা মা গাছের সাথে যুক্ত থাকবে আর মায়ের কাছ থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করবে। সুতরাং মা গাছের চেহারা দিন দিন খারাপ হবে এবং একটা সময় পর মারা যাবে।
এয়ারপ্ল্যান্টের চাহিদা খুব কম আর এদের পোকামাকড় আর ফাঙ্গাস হওয়ার চান্স খুব কম। এরা বেশ শক্ত প্রকৃতির।তাই আসুন সবাই নিজের বাগানে এয়ারপ্ল্যান্ট রেখে বাগানকে অনন্য সুন্দর করে তুলি।
Writer- Oitijjha Khandker Aurka
Comments
Post a Comment